নর্ডিক অঞ্চলে পারকিনসন রোগের ওষুধ বাজারজাত করেছে রেনাটা

তালিকাভুক্ত রেনাটা পিএলসি নর্ডিক অঞ্চলের দেশ ফিনল্যান্ডে ‘পারকাডিন’ নামে অ্যামান্টাডিন ১০০ মিলিগ্রাম ক্যাপসুলের প্রথম ও একমাত্র নিবন্ধিত জেনেরিক সংস্করণ বাজারজাত করেছে।

তালিকাভুক্ত রেনাটা পিএলসি নর্ডিক অঞ্চলের দেশ ফিনল্যান্ডে ‘পারকাডিন’ নামে অ্যামান্টাডিন ১০০ মিলিগ্রাম ক্যাপসুলের প্রথম ও একমাত্র নিবন্ধিত জেনেরিক সংস্করণ বাজারজাত করেছে। একই সঙ্গে ওষুধটি ডেনমার্ক, সুইডেন ও নরওয়েতে বাজারজাত করা হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে গতকাল এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্যানুসারে ওষুধটি রেনাটার ইইউ-জিএমপি অনুমোদিত রাজেন্দ্রপুর জেনারেল ফ্যাসিলিটিতে উৎপাদিত হয়েছে। এটি ডোপামিনার্জিক ওষুধ, যা পারকিনসন রোগের উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। পারকাডিন একক থেরাপি বা লেভোডোপার সঙ্গে মিলিয়ে প্রয়োগ করা যায়।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, নর্ডিক অঞ্চলে পারকাডিন বাজারজাত করা তাদের আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ কৌশলের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা ইউরোপে রেনাটার উপস্থিতি আরো শক্তিশালী করেছে। পাশাপাশি এ পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী মানসম্মত ও সহজলভ্য ওষুধ সরবরাহে কোম্পানির অঙ্গীকারকে আরো দৃঢ় করবে।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রেনাটার শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৬ টাকা ৪৭ পয়সা, আগের বছরে যা ছিল ৫ টাকা ১৯ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩১২ টাকা ১ পয়সায়।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আলোচ্য হিসাব বছরে রেনাটার ইপিএস হয়েছে ১৯ টাকা ৩৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩১ টাকা ৫৩ পয়সা।

৩০ জুন ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩০৫ টাকা ৪৯ পয়সায়।

এদিকে ঘোষিত লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডায় বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নিতে আগামী ২০ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় ডিজিটাল প্লাটফর্মে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করেছে কোম্পানিটি। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ নভেম্বর।

সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৯২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে রেনাটার পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩১ টাকা ৫৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২০ টাকা ৪০ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৯৫ টাকা ৫৬ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে রেনাটার ইপিএস হয়েছে ২০ টাকা ৪০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪৪ টাকা ৫৬ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৬৬ টাকা ৮৭ পয়সায়।

রেনাটার সর্বশেষ সার্ভিল্যান্স রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘‌ট্রিপল এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘‌এসটি ওয়ান’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং ৭ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে আলফা ক্রেডিট রেটিং পিএলসি (আলফা রেটিং)।

১৯৭৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রেনাটা পিএলসি ১৯৭২ সালে মার্কিন ওষুধ জায়ান্ট ফাইজারের একটি কোম্পানি হিসেবে বাংলাদেশে যাত্রা করে। ১৯৯৩ সালে ফাইজার স্থানীয় শেয়ারহোল্ডারদের কাছে তাদের মালিকানা বিক্রি করে চলে যায় এবং কোম্পানির নাম ফাইজার (বাংলাদেশ) লিমিটেডের বদলে হয় রেনাটা লিমিটেড। বর্তমান নাম রেনাটা পিএলসি। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২৮৫ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১১৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৩ হাজার ২৭২ কোটি ১৪ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১১ কোটি ৪৬ লাখ ৯৬ হাজার ৪৯০। এর ৫১ দশমিক ২৯ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২১ দশমিক ৯৭, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৮ দশমিক ৮৫ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

আরও